যাবতীয় অপপ্রচার, গুজব ও চক্রান্তের বেড়াজাল ছিন্ন করে এ বছর স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশে নিজেদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর আবহে পালন করেছেন দেশের সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা। পূজা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল বিচ্ছিন্ন কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা চালালেও, পুলিশ প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে প্রতিটি অসত্য তথ্যকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ‘ডিবাঙ্ক’ বা মিথ্যা প্রমাণ করা হয়েছে।
গত বছর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করতে একের পর এক ভয়াবহ ও কল্পকাহিনি নির্ভর গুজব ছড়িয়েছিল। তখনও প্রশাসনিক তৎপরতা এবং স্বাধীন আন্তর্জাতিক থার্ড-পার্টি ফ্যাক্ট-চেকার প্রতিষ্ঠানগুলো সেই অপপ্রচারের মুখোস উন্মোচন করে দিয়েছিল। এ বছরও একই ধরনের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদদের মতে, ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার টানা দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কখনোই এভাবে নিজেদের উৎসব স্বাধীনভাবে পালন করতে পারতেন না। কারণ, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তাদের অনুগত এজেন্সির সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃত্রিম সাবোটাজ বা নাশকতা সৃষ্টি করা হতো। এরপর তা আন্তর্জাতিক মহলে দেখিয়ে চরম ঘৃণ্য ‘সাম্প্রদায়িক কার্ড’ খেলে রাজনৈতিক ফায়দা লুটত তারা। তবে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনে সেই নোংরা অপকৌশল এবার সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
যদিও দেশে ছদ্মবেশে বা আত্মগোপনে থাকা বিচ্ছিন্ন চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। এর মাঝেও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে পূজা মণ্ডপে নাশকতার চেষ্টা করার সময় এক নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতাকে হাতে-নাতে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে সচেতন ধর্মপ্রাণ জনতা। যা প্রমাণ করে—জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং যেকোনো কৃত্রিম অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে একাট্টা।
ভবিষ্যতের রাজনীতির স্বার্থে বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উচিত আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের অন্ধ আনুগত্য থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের সংবিধানসম্মত নাগরিক ও অধিকারভিত্তিক রাজনীতিতে ফোকাস করা। দীর্ঘ দিন ধরে সংখ্যালঘুদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে নিজেদের আখের গুছিয়েছে যারা, সেই আওয়ামী চক্রান্ত ও ইসকনের মতো উগ্রবাদী এজেন্ডাধারীদের বয়কট করা এখন সময়ের দাবি।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এবং তাদের মূল রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক ভারতীয় উগ্র বিজেপির বিষাক্ত ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে সার্বভৌম ও সম্প্রীতির বাংলাদেশকে ধারণ করাই হোক প্রতিটি নাগরিকের মূল লক্ষ্য।







