চট্টগ্রাম নগরের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে থেকে পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ। তিনি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও, তাঁর সাবেক আওয়ামী দলীয় পরিচয় ও বিগত সরকারের আমলে পাওয়া বিশেষ সুবিধাগুলো নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে তীব্র প্রশ্ন ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
জানা গেছে, নিখিল কুমার নাথ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রভাবশালী মন্ত্রী হাছান মাহমুদের নির্বাচনি এলাকা রাঙ্গুনিয়ার রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তিনি যুক্ত ছিলেন। সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদের বিশেষ ডিও লেটারের সুবাদেই তিনি উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এবং অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই নিখিল নাথ উত্তর জেলা ছাত্রলীগ, আইন কলেজ ছাত্রলীগ এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, ইউনিয়ন ও কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। এমন একজন কট্টর আওয়ামী সুবিধাভোগী নেতা কীভাবে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুষ্ঠানে এত কাছে থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেন—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও ছাত্রদলের নেতারা।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক মাসুদ উল হক চৌধুরী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর পাশে আওয়ামী লীগ নেতা কীভাবে?” তিনি প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বিগত সরকারের সুবিধাভোগী এই ব্যক্তিকে কীভাবে এত কাছাকাছি রাখা হলো, তা খতিয়ে দেখা দরকার। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নজরে আনারও আহ্বান জানান এই ছাত্রদল নেতা।
তবে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত সুবিধাভোগের বিষয়টি অস্বীকার না করে নিখিল কুমার নাথ দাবি করেছেন, তিনি পূজা উদযাপন পরিষদের দায়িত্বশীল নেতা হিসেবেই অনুষ্ঠানে ভূমিকা রেখেছেন। নিজের সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, “বিএনপির লোকেরা আমাকে ভালোবাসেন। আমাদের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসেছেন। তিনি তো সবার। এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবিটি আওয়ামী লীগ এলে কেউ যদি দেখিয়ে বলে আমি বিএনপি করতাম, তাহলে কী শোভা পায়?”
বিতর্কিত এই আওয়ামী নেতাকে নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চললেও পুরো বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম। বৈঠক ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে তিনি এই স্পর্শকাতর ইস্যু এড়িয়ে গেছেন।
