রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত শনিবারের ওই পরিদর্শনকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে যান নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের এক চিহ্নিত নেতা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ভিভিআইপি প্রটোকল ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, পরিদর্শনের একপর্যায়ে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তানভীর জোমাদ্দার পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে শুরু করেন। পরিদর্শনের ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেখা যায়, ভিভিআইপি নিরাপত্তা বলয় সম্পূর্ণ ভেদ করে তিনি অনায়াসে প্রধানমন্ত্রীর প্রায় ঘাড়ের কাছে পৌঁছে যান। অথচ আশেপাশের দায়িত্বে থাকা সাদা পোশাকের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কর্মীরা বিষয়টি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি।
রাষ্ট্রীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির (ভিভিআইপি) সফর ঘিরে যেখানে বহুতল ভবন, রাজপথ ও চতুর্দিকে একাধিক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় এবং আগাম গোয়েন্দা নজরদারি থাকার কথা, সেখানে এমন মারাত্মক গাফিলতিকে ভিভিআইপি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন ধস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সচেতন মহলের তীব্র অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিজেদের মূল দায়িত্ব বাদ দিয়ে অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকায় এমন প্রাণঘাতী নিরাপত্তার ফাঁক তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের মারাত্মক ব্যর্থতায় জড়িত প্রতিটি সংস্থাকে অবিলম্বে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
এদিকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ৩৩ সেকেন্ডের সেই ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে তানভীরকে শনাক্ত করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। পরবর্তীতে বুধবার দুপুরে মিরপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর যদি অপরাধীকে শনাক্ত করতে হয়, তবে কোটি কোটি টাকা বাজেটের বিশেষ ভিভিআইপি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বহরের কাজ কী? প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকা ব্যক্তির এত কাছে একজন নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্যাডার ঢুকে পড়ার পর কেবল গ্রেপ্তারেই সব দায় শেষ নয়, বরং ভেতরের এই চরম ব্যর্থতার নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
