গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ভুক্তভোগী শিশুটির চাচাতো ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অপর এক আসামি পলাতক রয়েছেন।
বুধবার দিবাগত রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার মা বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা প্রায় ছয় বছর আগে মারা গেছেন। তার তিন বোন ও এক ভাই রয়েছে। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। শিশুটির মা ও আরেক বোন একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করায় সে বেশির ভাগ সময় বাড়িতে একা থাকত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত মে মাসে শিশুটির চাচাতো ভাই তাকে ফুসলিয়ে তাঁদের পুরোনো বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে অন্য তিন আসামিও একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
ওষুধ খাওয়ানোর পর গর্ভপাত
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে অভিযুক্ত চাচাতো ভাই ওষুধ এনে তাকে খাওয়ান। এরপর বুধবার ভোর চারটার দিকে শিশুটির পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। একপর্যায়ে তার গর্ভপাত ঘটে।
পরে শিশুটি তার মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপর তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুরের একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
একজন আসামি এখনো পলাতক
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার চার নম্বর আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
