রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ক্রমবর্ধমান চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে অস্ত্র ও গুলিসহ মো. মশিউল আজম অরিন এবং তার অন্যতম সহযোগী শান্ত ইসলামকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর পল্লবী থানায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মিরপুরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্থানীয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রাতে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের ব্যস্ততম সড়ক এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল পল্লবী থানা পুলিশের একটি টহল দল। এ সময় একটি বেপরোয়া মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দিলে আরোহীরা সংকেত অমান্য করে দ্রুত গতিতে পালানোর চেষ্টা চালায়। পুলিশ তাৎক্ষণিক ধাওয়া করে তাদের ঘেরাও করে মোটরসাইকেলসহ দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটকের পর ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক দেহ তল্লাশি চালিয়ে মশিউল আজম অরিনের কাছ থেকে অত্যন্ত লোডেড একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি এবং সঙ্গে থাকা একটি বিষাক্ত চাকু জব্দ করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই অস্ত্র ব্যবহার করে তারা পল্লবী ও মিরপুর এলাকায় বড় ধরনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা চাঁদাবাজির প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
ডিসি হাসান নাছের রিকাবদার আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া এই দুজনের বিরুদ্ধে মিরপুর ও এর আশপাশের থানায় অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক পুরোনো ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তারা কতদিন ধরে এই অবৈধ অস্ত্র বহন করছিল, অস্ত্রের মূল উৎস বা বিদেশি এই পিস্তলটি কার মাধ্যমে তাদের হাতে এসেছে এবং এই নেটওয়ার্কের পেছনে আর কারা কলকাঠি নাড়ছে, তা নিশ্চিত করতে তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।
