লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশি কৃষকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে কৃষকদের মারধরের চেষ্টার প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফ সদস্যদের ধাওয়া করলে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্তের ৮৩৭/৪-এস নম্বর মেইন পিলারের কাছাকাছি এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর পুরো সীমান্তজুড়ে চরম থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে বিএসএফের একটি টহল দল আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় সীমান্তসংলগ্ন মাঠে কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকা নিরীহ বাংলাদেশি কৃষকদের কোনো কারণ ছাড়াই মারধর ও হেনস্তা করার চেষ্টা চালায় বিএসএফ সদস্যরা।
বিএসএফের এই অনধিকার প্রবেশ ও ঔদ্ধত্যে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে শত শত মানুষ লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএসএফ সদস্যদের ওপর চড়াও হন। স্থানীয়দের এই বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ ও ধাওয়ার মুখে টিকতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, স্থানীয়দের ধাওয়ায় পিছু হটার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে নিজেদের ভারতীয় ভূখণ্ডে পালিয়ে গিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি এবং বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেওয়ার জন্য ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, তাঁরাও এ ধরনের একটি অপ্রীতিকর ঘটনার কথা শুনেছেন এবং এসংক্রান্ত একটি ভিডিও তাঁদের হাতে এসেছে। তবে যেহেতু বিষয়টি সম্পূর্ণ সীমান্ত এলাকার এখতিয়ারভুক্ত, তাই বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানো পর্যন্ত থানা পুলিশের পক্ষে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
