চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “চূড়ান্ত বিজয়” অর্জন করে ইরান বিশ্বের একক ও প্রধান পরাশক্তিতে পরিণত হবে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেন মোহেব্বি। কাজভিন প্রদেশে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আইআরজিসির এই শীর্ষ কর্মকর্তা ভবিষ্যৎ বিশ্ব রাজনীতিতে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়ার এই চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দেন।
সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, এই চূড়ান্ত যুদ্ধে আমরা বিশ্বমঞ্চে একমাত্র পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করব।” এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে সমগ্র ইরানি সমাজকে ইস্পাত কঠিন ঐক্য বজায় রাখা, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির সঠিক অনুধাবন এবং সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব ঘরোয়া সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সংঘাতকে কেবল একটি সাধারণ সামরিক বা আঞ্চলিক যুদ্ধ হিসেবে দেখতে নারাজ এই আইআরজিসি মুখপাত্র। তিনি এই সংঘাতকে ইরানের জাতীয় সত্তা, ইসলামি মূল্যবোধ, হাজার বছরের সংস্কৃতি ও সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে চিত্রায়িত করেন। তাঁর মতে, পশ্চিমা শক্তি ও প্রতিপক্ষরা ইরানের সামরিক শক্তির চেয়ে বরং তাদের মৌলিক ইসলামি পরিচয় এবং জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসকে দুর্বল করতেই বেশি মরিয়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইআরজিসির পক্ষ থেকে যুদ্ধকে একটি ‘অস্তিত্ব রক্ষার মহাযুদ্ধ’ হিসেবে প্রচার করা মূলত জনগণের মনস্তাত্ত্বিক মনোবল ধরে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ সংহতি জোরদার করার একটি কৌশল। তবে চূড়ান্ত যুদ্ধের পর ইরান বিশ্ব পরাশক্তিতে পরিণত হবে—মুখপাত্রের এমন দাবিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা বাস্তবভিত্তিক সামরিক ফলাফলের চেয়ে একটি কৌশলগত ও রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা বার্তা হিসেবেই দেখছেন।
