রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকালে তাঁকে বহনকারী বাসের ছবিতে স্নাইপার দিয়ে হামলার উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত আবু বকর সিদ্দিকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এ দিন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়াছিন পাইক আসামিকে আদালতে হাজির করে সুনির্দিষ্ট তথ্য উদ্ঘাটনে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন।
আদালতে শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (আইনজীবী) শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানান, দেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করতে রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর হামলার পরিকল্পনার নেপথ্যে কোনো দেশি-বিদেশি জঙ্গি বা রাজনৈতিক গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে কি না, তা বের করা অত্যন্ত জরুরি। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে আসামিকে নিবিড় হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। শুনাকালে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার নজরদারির সময় ‘THE BEAUTY OF RAJSHAHI’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ‘Maisa Anjum’ নামের আইডি থেকে পোস্ট করা প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাসের একটি ছবি দেখতে পায়। ওই ছবির কমেন্ট বক্সে ‘MD Abu Bokor Siddique’ নামের আইডি থেকে লেখা হয়, “ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিল।”
রাষ্ট্রপ্রধানকে নিয়ে চরম উসকানিমূলক ও ঝুঁকিপূর্ণ এই মন্তব্য নজরে আসার পরপরই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করে ডিবি পুলিশ। পরবর্তীতে ডিবি ও রাজশাহী মহানগর পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ২১ অক্টোবর বিকেল ৫টায় রাজশাহীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিক ও তাঁর বাবা মো. আয়নাল হককে আটক করে।
অভিযানকালে আসামির হেফাজত থেকে ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি জব্দ করা হয়, যেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিদ্দিক ফেসবুকে উল্লিখিত মন্তব্যটি করার কথা সরাসরি স্বীকার করেন। সিদ্দিকের বাবা ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ডিবি ঢাকা উত্তরের এসআই মো. মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন।
