মানিক পশারীর মৃত্যু, দাফন এবং তাঁর মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পর সৃষ্ট বিতর্কের সুরাহা করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রকাশিত সংবাদের বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রশ্নের প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মানিক পশারীর মৃত্যু, দাফন, মুক্তিযোদ্ধা সনদের বৈধতাসহ সামগ্রিক বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
গঠিত কমিটিকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র চেতনা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ভুয়া ও অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকা থেকে বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সম্মান ও মর্যাদা যাতে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও মন্ত্রণালয় সর্বদা সতর্ক ও সচেষ্ট রয়েছে।
মন্ত্রণালয় দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছে, কোনো মুক্তিযোদ্ধা ব্যক্তিগতভাবে অনৈতিক কাজে জড়িত হলে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হলে তার ব্যক্তিগত দায় তাকেই বহন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে উল্লেখ করা হয়, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বর্তমান মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কোনো জালিয়াত চক্র বা গোষ্ঠী যাতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে কোনো ধরনের সংকটে ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বাবস্থায় সজাগ রয়েছে।
