ঝিনাইদহের মহেশপুরে কৃষকদের সারের কার্ড ভাগাভাগি ও দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ইউনিয়নের জিতারপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে জিতারপুর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে রিপন হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের হাদান মণ্ডলের ছেলে মইদুল ইসলামের মধ্যে কৃষকদের সারের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে তারা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে মহেশপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মহেশপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আজমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মফিজ মাস্টার সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া উভয় পক্ষের লোকজনই মূলধারার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমনকি তাদের মধ্যে মকুল নামের একজন একটি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান আলম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। সংঘর্ষে জড়িত উভয় পক্ষই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় থানায় একটি পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিতে এসেছে উল্লেখ করে ওসি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
