রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দিনভর নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা, কেন্দ্র দখল, আগাম সিল মারা ও জালিয়াতির মারাত্মক সব অভিযোগের মধ্যেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমীনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) রাতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেন।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ১৮৫টি কেন্দ্রের মোট গণনায় বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমীন ২ লাখ ২৭ ৭৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫ ভোট। অর্থাৎ ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী দেখানো হয়েছে বিএনপির প্রার্থীকে।
তবে নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে চরম অব্যবস্থা ও সুসংগঠিত কারচুপির নানা অভিযোগ উঠে আসে। সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে “ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে” এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি শূন্যের কাছাকাছি থাকলেও ভেতরে ব্যালট বাক্সে আগে থেকেই সিল মারা ব্যালট জমা পড়ে থাকার তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক নির্বাচন কর্মকর্তার গলায় কোনো ছবিযুক্ত বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা এবং বহিরাগতদের ভুয়া ভোটার বানিয়ে কেন্দ্রে ঢোকানোর একাধিক ঘটনা দিনভর নির্বাচনকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। বিরোধী প্রার্থীদের অভিযোগ—১৯৯৪ সালের বিতর্কিত ‘মাগুরা মডেল’-এর আদলে একতরফা প্রহসনের মধ্য দিয়েই এই ফলাফল তৈরি করা হয়েছে।
বিপুল বিতর্ক ও কারচুপির অভিযোগের মুখে জয় পেয়ে নিজ সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফয়সাল আমীন বলেন, “কোনো অবস্থাতেই প্রতিপক্ষকে ছোট করবেন না, প্রবঞ্চনা করবেন না। আমরা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শের অনুসারী। বিজয় আমাদের হৃদয়ে, তাই বিজয়ের কোনো মিছিল হবে না।”
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই উপনির্বাচনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু জালিয়াতির নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল পূর্বনির্ধারিত ছকেই প্রকাশ করা হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
