রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমীন। তবে ভোটগ্রহণের সারাদিনজুড়ে নানা জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল, ভুয়া ভোট প্রদান এবং বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেওয়ার মতো তীব্র বিতর্কের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে এই নির্বাচন। এই নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে চরম আত্মবিশ্বাসী প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকের মো. খাদেমুল ইসলামের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মো. খাদেমুল ইসলাম নিজের শতভাগ বিজয় নিশ্চিত বলে বেশ জোর গলায় দাবি করেছিলেন। কিন্তু রাত শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, হাতপাখা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩,২৮৯ ভোট।
নির্বাচন কমিশনের আইনি বিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে নিজের জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ (১/৮ অংশ) ভোট পেতে হয়। কিন্তু ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হাতপাখা প্রার্থীর সংগৃহীত ভোট নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার অনেকটাই নিচে থাকায় তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
তবে এই ফল মেনে নিতে নারাজ বিরোধী দলগুলো। সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোটে কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ ভোটারদের অনুপস্থিতিতেও ব্যালট বাক্সে আগে থেকে সিল মারা ব্যালট পেপার জমাসহ নানা অনিয়ম প্রত্যক্ষ করা গেছে। জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, নির্বাচন কর্মকর্তারা সরাসরি শাসক দলের প্রার্থীর পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করেছেন এবং ভোটাররা কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, একই নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ প্রতীক) ৮৩৬ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব প্রতীক) ৪৫০ ভোট পেয়ে নিজেদের জামানত হারিয়েছেন। অন্যদিকে জালিয়াতি ও কারচুপির বিস্তর অভিযোগের মুখে ধানের শীষ প্রতীকে মির্জা ফয়সাল আমীন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬,৫১৩ ভোট।
