যশোরের অভয়নগরে স্কুল চলাকালে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় জড়িতদের সহায়তার অপরাধে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ও দপ্তরিকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বাহিরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জুলিয়া আফরিন এবং দপ্তরি মোস্তাফিজুর রহমান। গত বুধবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) রাতে অভয়নগরের নওয়াপাড়া বাজার এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
পুলিশ ও ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর বিদ্যালয় চলাকালে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাথরুমে যায় ওই শিশুটি। অভিযোগ উঠে, সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন ওত পেতে থেকে বাথরুমে ঢুকে শিশুটির মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
পরদিন ২৭ অক্টোবর শিশুটি স্কুলে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তার মা কারণ জানতে চান। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো নির্যাতনের ঘটনা বিস্তারিত জানায় শিশুটি। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শেখ লুৎফর রহমান জানান, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে প্রধান শিক্ষিকা ও দপ্তরির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক সহায়তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর অভিভাবক ও স্বজনেরা ঘটনার পরপরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জুলিয়া আফরিনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
কিন্তু প্রধান শিক্ষিকা কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো স্কুলের দপ্তরি মোস্তাফিজুর রহমানের সহায়তায় অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনকে নিরাপদে পালিয়ে যেতে সরাসরি সুযোগ তৈরি করে দেন। এই দায়িত্বে অবহেলা ও আসামিকে পালানোয় সহায়তার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, আত্মগোপনে থাকা প্রধান অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে এবং খুব দ্রুতই তাঁকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।







