গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে চলমান আন্দোলন একদফা দাবিতে রূপান্তরিত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চান না তাঁরা। তবে জনগণের রায় উপেক্ষা করা হলে বিরোধী দল নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না।
শনিবার (তারিখ উল্লেখ নেই) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবিতে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-কুষ্টিয়া লংমার্চের ঝিনাইদহ অংশের কর্মসূচির আওতায় এ পথসভার আয়োজন করা হয়।
‘সাত দফা দাবি ১৮ কোটি মানুষের অধিকারের প্রশ্ন’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁদের সাত দফা দাবি স্পষ্ট এবং এসব দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তাঁরা মাঠে নেমেছেন। এই দাবিগুলো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে তাদের অপমান করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মানুষ দুটি ভোট দিয়েছিল। কিন্তু গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও সেই রায় যথাযথভাবে মানা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় অবৈধ বলে বিবেচিত হলে একই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে গণভোটের ফল বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দলের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
জামায়াত আমির আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধী জোটের দাবিগুলো মেনে নেবে। তবে দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা হলে আন্দোলনকে একদফা দাবিতে রূপান্তরিত করা হবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৮ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, তাঁরা দেশে অস্থিতিশীলতা বা বিশৃঙ্খলা চান না। কিন্তু জনগণের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে বিরোধী দল নিষ্ক্রিয় থাকবে না।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের বক্তব্য
ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবুবকরের সভাপতিত্বে পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তাদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ১১ দলীয় জোটের নেতা ও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক রেজা।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন এবি পার্টির যুব সংগঠনের সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন, অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, মাওলানা আবু তালেব এবং সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল ও রুহুল আমিনসহ অন্যান্য নেতারা।
সাত দফা দাবি নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা-কুষ্টিয়া লংমার্চের অংশ হিসেবে ঝিনাইদহে এই পথসভার আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে জোটের নেতারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান দেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ রাখতে চায় বিরোধী জোট। তবে সমঝোতা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার প্রস্তুতিও রয়েছে তাদের।
মূল বার্তা: গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দাবি পূরণ না হলে সাত দফার আন্দোলন একদফা দাবিতে রূপ নেবে এবং রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।







