সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও অসত্য তথ্যের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এই বক্তব্য দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারকে উদ্দেশ করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “আমাদের উত্তরের প্রশাসক বলেছেন যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের নাকি ৭০০ ই-রিকশা আছে। তাহলে আমি জামায়াতের সেক্রেটারিকেও বলব, আপনিও আতঙ্কিত হবেন না। আপনি পাঁচটা নিবন্ধন পাবেন বৈধভাবে, যদি আপনি নিতে চান। আর বাকিগুলো আপনাকে অন্যদের নামে নিবন্ধন নিতে হবে।”
তথ্যগত অসঙ্গতি ও বাস্তব চিত্র:এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসকের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মহলে জামায়াত নেতার ৭০০ ই-রিকশা থাকার একটি কাল্পনিক তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জানানো হয় যে, মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে ৭০০ বা কোনো অটোরিকশা থাকার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, অসত্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এমনকি বিভিন্ন তথ্য যাচাইকারী সংস্থাও (ফ্যাক্টচেক) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ওই তথ্যটিকে ডাহা মিথ্যা ও ভুয়া বলে প্রমাণ করেছে।
অথচ কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর মুখ থেকে এমন ভিত্তিহীন তথ্য ও উপহাসমূলক মন্তব্য আসার ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দায়িত্বশীল পদে থেকে সামাজিক মাধ্যমের অনাগত ও ভিত্তিহীন গুঞ্জনকে সত্য ধরে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের মন্তব্য করা কতটুকু যৌক্তিক—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।







