আসন্ন সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ ও দর-কষাকষির চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। নেগোসিয়েশনে ব্যর্থ হয়ে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিংয়ের রাজনীতিতে নামার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) বিরুদ্ধে।
দলীয় ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সূত্রে জানা গেছে, মাসখানেক আগে এনসিপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের যেকোনো একটি এনসিপির প্রার্থীর জন্য সমঝোতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে জামায়াত আমির সেই আবদার সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দুটি সিটিতেই জামায়াত তাদের নিজস্ব প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে এবং অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রুকনদের ভোটিং সম্পন্ন হয়েছে। এনসিপি ঢাকায় নিজস্ব প্রার্থী দিলে তাতেও জামায়াতের কোনো আপত্তি থাকবে না বলে জানানো হয়।
এদিকে, অভ্যন্তরীণ কৌশলের অংশ হিসেবে আসিফকে উত্তর এবং নাসির উদ্দিনকে দক্ষিণ সিটিতে প্রার্থী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে এনসিপি। মূলত দক্ষিণে সাদিক কায়েমকে ঘিরে সৃষ্ট হাইপ এবং অভ্যন্তরীণ তোপ সামলাতে সেলিম সাহেবকে সরানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায় তারা। কিন্তু জামায়াত দুই সিটিতেই নিজেদের শক্ত অবস্থানে অনড় থাকায় নেগোসিয়েশনে ব্যর্থ হয়ে এনসিপি প্রকাশ্যে চাপ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের পথ বেছে নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত দুদিন ধরে জামায়াতের লংমার্চের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়া, পত্রিকায় স্টেটমেন্ট দিয়ে ট্রিগার করা এবং জামায়াতকে বাদ দিয়ে স্বতন্ত্র পরিচয়ে থাকার হুমকির পেছনে সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত কৌশল রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এর আগে জাতীয় নির্বাচনের সময়ও এনসিপি বিএনপির সাথে একইভাবে দর-কষাকষির চেষ্টা করেছিল। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার কারণে এনসিপির ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং সফল হয়নি।
বিএনপির হাই কমান্ড থেকে এনসিপিকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তারা নাহিদ ও আখতারসহ নির্দিষ্ট ৭টি আসনে এনসিপিকে ছাড় দেবে। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে সারজিস ও আসিফসহ অন্তত ১৫টি আসনের দাবি তোলা হয়।
এমনকি আসিফ মাহমুদ ব্যক্তিগতভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে জোর চেষ্টা চালিয়েছিলেন এবং দলে যোগ দিয়ে অনুগত থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। বিএনপির ২৮ ডিসেম্বরের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অনেক নেতা বিষয়টি বিবেচনার পক্ষে মত দিলেও, শেষ পর্যন্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান।
বিএনপির সেই কঠোর সিদ্ধান্তের পর আসিফ মাহমুদের অন্য কোনো দলের ব্যানারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়, কারণ জামায়াতও তাঁকে জোটের প্রার্থী করতে অস্বীকৃতি জানায়।
জাতীয় নির্বাচনের পর এখন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও একই ধরনের দর-কষাকষি ও রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। শেষ পর্যন্ত ঢাকার মেয়র নির্বাচনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
