গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক আজও চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত এড়াতে ইতোমধ্যে গাজীপুরের অন্তত দেড় শতাধিক পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ছুটি হওয়া এসব কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে নেমে অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকাল থেকে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা।
আন্দোলনকারী শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে তাদের একাধিকবার তুমুল সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বেলা ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি ও পুলিশ ধাওয়া দিলে আন্দোলনকারীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য গুরুতর আহত হন।
সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের তিনটি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পর আগুন ধরিয়ে দেন।
সংবাদ সংগ্রহের সময় আন্দোলনকারীদের হামলার শিকার হন গণমাধ্যমকর্মীরাও। এতে সময় টিভির রিপোর্টার ও চিত্রসাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয় এবং এসএ টিভির একজন চিত্রসাংবাদিক পায়ে গুরুতর আঘাত পান।
পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে দেড় শতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি, জেলা পুলিশ ও মহানগর পুলিশের পাশাপাশি শিল্প পুলিশের সদস্যরা একযোগে মাঠে কাজ করছেন।
