বিমানবন্দরে প্রবাসীদের নানান ভোগান্তির তীব্র প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া জামায়াত নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সকালে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন। সকাল ১০টায় তাঁর কারামুক্তির কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে কারা ফটকে উপস্থিত থেকে তাঁকে তাৎক্ষণিক সংবর্ধনা জানাবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত রাষ্ট্রপক্ষের জামিন স্থগিতের আবেদন নামঞ্জুর করায় তাঁর মুক্তিতে সব আইনি বাধা দূর হয়। আদালতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তাঁকে জামিন দেন। এরও আগে গত ৪ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন।
ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলা এবং প্রবাসীদের ভোগান্তির সৃষ্টি হলে সেখানে প্রতিবাদ জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এ সময় সরকারি কাজে বাধা ও এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ২ অক্টোবর বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করেন। পরে আদালত তাঁর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর সকালে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় অবতরণ করেন। ইমিগ্রেশন শেষে ট্রলি সংকট, লাগেজ পেতে দীর্ঘ বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ প্রবাসী যাত্রী ও তাঁদের প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রবাসীদের এমন অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তির প্রতিবাদ করতে গিয়েই গ্রেপ্তার ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা।







