মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের জেরাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। এ সময় জিয়াউল আহসানের বোন ও আইনজীবী নাজনীন নাহারের উদ্দেশে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ‘আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু সহ্য করেছি।’ একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের সার্বিক পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। এদিন টানা সপ্তম দিনের মতো তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে জেরা করেন জিয়াউল আহসানের আইনজীবীরা।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাহিদুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন। একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তের সময় তিনি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কার্যালয়ে গিয়ে কোনো তথ্য সংগ্রহ করেননি। অথচ ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত র্যাব ও এনএসআইয়ে দায়িত্ব পালন করেছিলেন জিয়াউল আহসান।
তদন্ত কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের পর কয়েকজন প্রসিকিউটর তাকে কম্পিউটারের ডিসপ্লের দিকে তাকানোর নির্দেশ দেন। এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সব প্রশ্নের উত্তর সম্মিলিতভাবে দেওয়ার অনুরোধ জানান আসামিপক্ষের আইনজীবীদের পাশে বসে থাকা জিয়াউল আহসানের বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে নাজনীনের দিকে আঙুল তুলে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ‘আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু সহ্য করেছি।’
জবাবে নাজনীন নাহার বলেন, তার সঙ্গে কথা বলার সময় যেন আঙুল তুলে কথা বলা না হয়।
এ সময় আসামিপক্ষের আগের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন প্রসিকিউটর তামিম। ওই মন্তব্যে বলা হয়েছিল, ট্রাইব্যুনাল কী রায় দেবেন, তা তারা জানেন। বিষয়টি নিয়ে জিয়াউল আহসানের বোন নাজনীন নাহারের কাছে জানতে চান বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তারা কীভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
একপর্যায়ে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের পরিবেশ সালিশি বৈঠকের পরিবেশের চেয়েও নিচে নেমে গেছে।’
তার এমন মন্তব্যের পর ট্রাইব্যুনাল জানতে চান, ‘আপনি কী চান? আমরা কি আইনগত ব্যবস্থা নেব?’
জবাবে তামিম বলেন, তারা ট্রাইব্যুনালের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চান। শুনানি চলাকালে আসামি ও তার আইনজীবীরা একসঙ্গে কথা বলছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরে কিছুক্ষণ বাক্যবিনিময়ের পর বিরতিতে যান ট্রাইব্যুনাল। বিরতির সময় সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন প্রসিকিউটর তামিম।
তিনি জানান, আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী ক্ষুব্ধ হয়ে জেরা চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। পরে অন্য একজন আইনজীবী তাকে জেরা অব্যাহত রাখার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করছিলেন।







