যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে শাসক দল রিপাবলিকান পার্টি। ডেমোক্র্যাটদের এমন অভাবনীয় জয়ের মুখে রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পরাজয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও ট্রাম্প দাবি করেছেন, নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী থাকলে তাঁর দল ‘ভূমিধস’ বিজয় অর্জন করতে পারত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি কিন্তু ব্যালটে ছিলাম না। আর যদি আমি ব্যালটে থাকতাম, তবে আমরা ভূমিধস জয় পেতাম! বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই মধ্যবর্তী নির্বাচনটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতি ও শাসনের ওপর এক বড় ধরনের জনমত পরীক্ষা ছিল। বিশ্বব্যাপী জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম, লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয়, বিতর্কিত শুল্কনীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরির মতো আন্তর্জাতিক পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের তীব্র অসন্তোষ এই নির্বাচনে ফুটে উঠেছে। এর ফলে ট্রাম্পের নিজস্ব জনসমর্থনের পারদও ঐতিহাসিক সর্বনিম্নের কাছাকাছি নেমে গেছে।
নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটেছে রিপাবলিকান দুর্গ বলে পরিচিত দক্ষিণ ক্যারোলাইনায়। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও পেশায় শিশু চিকিৎসক ডার্লিন গ্রাহামকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাটদের হয়ে আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তাঁর বোন ডার্লিন গ্রাহামকে ট্রাম্পের সমর্থনে ওই আসনে বসানো হয়েছিল, যা ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেল।
একইভাবে নর্থ ক্যারোলাইনাতেও বড় ধাক্কা খেয়েছে রিপাবলিকানরা। সেখানে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থীকে হটিয়ে বড় জয় নিশ্চিত করেছেন জনপ্রিয় সাবেক ডেমোক্র্যাট গভর্নর রয় কুপার।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নিজস্ব অঙ্গরাজ্য ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটনের কাছে হেরে গেছেন ট্রাম্পের আরেক অনুগত ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবের বিবেক রামাস্বামী। এছাড়া জর্জিয়ার সিনেট আসন ধরে রেখেছেন ডেমোক্র্যাটদের উদীয়মান নেতা জন অসফ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারে জয় পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন সিনেটের প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী প্রতিনিধি ক্রিস পাপাস।







