চলমান মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি জানিয়েছে জাতীয় শ্রমিক শক্তি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলনে কোনো ধরনের সহিংসতা, হামলা কিংবা বলপ্রয়োগ না করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, আগামী তিন দিনের মধ্যে শ্রমিকদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণ ও কার্যকর করতে হবে।
মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির নেতারা। এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ও মালিকপক্ষ মজুরি বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে দলীয়করণ করেছে এবং সেখানে নিজেদের পছন্দের লোকদের নিয়োগ দিয়েছে। শ্রমিকেরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছেন না। সরকারের বিভিন্ন সময়ে নেওয়া অপরিপক্ব ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই শ্রমিকদের আন্দোলন বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং শ্রমিকদের অসন্তোষ নিরসনে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বাড়াতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব নয় বলেও তিনি মনে করেন।
সংগঠনটির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির বলেন, শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের দাবিতে তাঁরা আগে থেকেই মজুরি বোর্ড গঠনের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এ বিষয়ে শ্রমমন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে তাঁরা শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আগে থেকেই আমরা মজুরি বোর্ড গঠন করে নতুন মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছি। অথচ এই কাজে শ্রমমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা ব্যর্থ শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।’
জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্যসচিব রিয়াজ মোর্শেদ আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর প্রশাসনের বলপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের ভাইদের কাছে অনুরোধ, আপনারা শ্রমিকদের আন্দোলনে হামলা করবেন না। আমরা আওয়ামী আমলের পুলিশ দেখতে চাই না।’
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের যৌথ মদদে শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের হামলা ও দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে ভিন্ন মাত্রা নিতে পারে বলে তাঁরা সতর্ক করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারকে দ্রুত সহনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির নেতারা।







