ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনের দৌড়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে গেছেন বিরোধী নেতা ও ‘ইয়াশার’ পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকট।
দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটের ৬৭ জন সদস্য আইজেনকটকে সরকার গঠনের জন্য প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজগের কাছে সুপারিশ করেছেন। বিপরীতে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন এসেছে ৪৬ জন আইনপ্রণেতার।
নেসেটের হিসাব ও রাজনৈতিক জটিলতা
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২৬তম নেসেট নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট হারজগ সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী আলোচনা শেষ করেন। ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা হারেৎস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখান থেকেই রাজনৈতিক সমর্থনের এই নতুন সমীকরণ সামনে আসে।
- আইজেনকটের পক্ষে সমর্থন (৬৭ আসন): ডানপন্থী নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যানের দল, একাধিক মধ্যপন্থী ও বামপন্থী দল এবং আরব রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর (জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম) সমন্বয়ে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে।
- নেতানিয়াহুর অবস্থা (৪৬ আসন): নেতানিয়াহুর দল ‘লিকুদ’ ২৭টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হলেও তার ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোট মোট ৫৩টির বেশি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি।
ইসরায়েলে সরকার গঠন করে আস্থা ভোটে টিকে থাকতে অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন হয়। গাদি আইজেনকট সেই সংখ্যা অতিক্রম করলেও তার সরকার গঠন এখনো সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়।
মূল চ্যালেঞ্জ: জোট গঠন ও অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য
রাষ্ট্রপতির কাছে কোনো নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করা আর আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দেওয়া এক কথা নয়। আরব দল ‘জয়েন্ট লিস্ট’ (১১ আসন) জানিয়েছে, তারা সরকারে যোগ না দিয়েও বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে।
আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়া ডানপন্থী, মধ্যপন্থী ও আরব দলগুলোর রাজনৈতিক আদর্শ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই বিপরীতমুখী দলগুলোকে নিয়ে একটি স্থায়ী ও স্থিতিশীল জোট গঠন করাই এখন আইজেনকটের প্রধান পরীক্ষা।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা না হারালেও নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রেসিডেন্ট হারজগ সতর্ক করে জানিয়েছেন, কেবল সমর্থনের সংখ্যা দিয়েই সিদ্ধান্ত হবে না; দলগুলোর পারস্পরিক আপত্তি ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ
ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট সরকার গঠনের জন্য মনোনীত ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় দেন, যা প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যায়। এ সময়ের মধ্যে আইজেনকট সফল না হলে অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে, অথবা দেশটিতে ফের নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত হবে।
আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজগ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন বলে জানা গেছে।
