সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিকে বয়কট করে এবার রাজপথ ও জনমতভিত্তিক বিকল্প পথে হাঁটছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী ঐক্য। জাতীয় সংসদকে বাইপাস করে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামে একটি স্বতন্ত্র রূপরেখা ও ফোরাম তৈরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটটি।
গত ১৩ জুলাই সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি করে গঠিত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটিকে জামায়াত ও তার সহযোগীরা গোড়াতেই প্রত্যাখান করে। সরকার ‘সংবিধান সংশোধন’ করতে চাইলেও ১১ দলীয় ঐক্য ‘পূর্ণাঙ্গ সংবিধান সংস্কার’ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ওপর অনড় অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য বরাদ্দ ৫টি পদ খালি থাকলেও সেখানে জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কিংবা খেলাফত মজলিসের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ১৫ সদস্যের এই ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদে’ ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা থাকবেন। তালিকায় বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, পাবনা-১ আসনের এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন, এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন, দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বিশিষ্ট আইনজীবী শিশির মনির এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমসহ শীর্ষ নেতাদের রাখার বিষয়ে জোর আলোচনা চলছে।
লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ এই বিকল্প পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের রায় ও গণভোটের স্পষ্ট ম্যান্ডেটকে অবজ্ঞা করছে। গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৬৯ শতাংশের ইতিবাচক রায় এবং জুলাই সনদের মূল চেতনা থেকে সরে গিয়ে সরকার স্বৈরাচারী মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। ফলে গণভোটের রায় ও শপথের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তারা নিজস্ব রূপরেখা তৈরির পথ বেছে নিয়েছেন।
বিশেষ করে, গণভোটে অনুমোদিত উচ্চকক্ষের ৫০ শতাংশ আসন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে গঠন এবং স্পিকার নির্বাচনের যে সিদ্ধান্ত ছিল, সরকার তা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে বলে মনে করছে বিরোধী জোট। জোট নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন, সংসদ সদস্য হিসেবে সাধারণ শপথের পাশাপাশি জামায়াত জোটের ৭৭ জন প্রতিনিধি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবেও আলাদা শপথ নিয়েছিলেন, যার প্রতি তাদের আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, নতুন এই পরিষদের ব্যানারে জামায়াত-এনসিপি জোট কেবল একটি খসড়া সংবিধানের রূপরেখাই তুলে ধরবে না, বরং ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সরকারের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়াবে। সব প্রস্তুতি শেষে আগামী সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংবাদ সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও গণমুখী নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসবে বলে নিশ্চিত করেছেন জোটের শীর্ষ নেতারা।







