কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় দিনদুপুরে মাইক্রোবাস থামিয়ে মাহমুদুল হক (৪৫) নামে এক আসবাবপত্র ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের লিংক রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে শহরের হাশেমিয়া মাদ্রাসা এলাকায় বসবাসকারী মাহমুদুল হকের শহরের হাশেমিয়া মাদ্রাসা ও রামু এলাকায় আসবাবপত্রের ব্যবসা রয়েছে।
ঘটনার বিবরণে গুলিবিদ্ধ মাহমুদুল হক জানান, শুক্রবার দুপুরে বাসা থেকে মাইক্রোবাসে করে রামুতে নিজের দোকানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন তিনি। পথিমধ্যে খরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছয়জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁর মাইক্রোবাসের গতি রোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে লক্ষ্য করে পর পর তিনটি গুলি ছোড়ে হামলাকারীরা। গুলি পিঠ ও কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিদ্ধ হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীর ভাই জসিম উদ্দিন এই হামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর ভাই ও সহযোগীদের সরাসরি দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, লিংক রোড এলাকার বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর সঙ্গে তাঁদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর লিয়াকত বাহিনী তাঁদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। সেই বিরোধের জেরে লিয়াকতের ভাই জায়েদ, কিতাব আলী ও ওয়াজেদ আলী এবং তাঁদের সহযোগী আবু নাছেরসহ ছয়জন এই কিলিং স্কোয়াডে অংশ নিয়ে তাঁর ভাইয়ের ওপর হামলা চালায়।
জসিম উদ্দিন আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশেদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর প্রত্যক্ষ অনুসারী। হামলার সময় স্থানীয় জনতা এক হামলাকারীকে হাতেনাতে আটক করলেও পরবর্তীতে বিএনপি নেতা রাশেদ উল্লাহ উপস্থিত হয়ে চাপ সৃষ্টি করে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশেদ উল্লাহ। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি মসজিদের একটি বৈঠকে ছিলেন এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই সত্যতা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক দল অপরাধীদের ধরতে মাঠে কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ মে কক্সবাজার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই হামলায়ও বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী ও তাঁর ভাই জায়েদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের ওপর গুলিবর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল এবং উক্ত মামলায় লিয়াকত আলী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
