বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অবকাঠামো ও আঞ্চলিক যোগাযোগের কেন্দ্রে থাকা মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে গতি পাচ্ছে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও ভূরাজনৈতিক আলোচনা। সম্প্রতি জাপানের ‘বিগ-বি’ (Bay of Bengal Industrial Growth Belt) উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকল্পটির অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ নতুন করে জোর পেয়েছে।
বিগ-বি উদ্যোগ ও মেগা প্রকল্পের বিস্তার
২০১৪ সালে প্রাথমিকভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নৌ-চ্যানেল খননের মাধ্যমে মাতারবাড়ী প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রাক্-সমীক্ষার ভিত্তিতে এটিকে গভীর সমুদ্রবন্দরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সৌরবিদ্যুৎ, এলএনজি টার্মিনাল, বিশ্বমানের লজিস্টিকস হাব এবং রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এই অঞ্চলে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে, যার বড় একটি অংশ আসার কথা রয়েছে বৈদেশিক ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (PPP) মাধ্যমে।
আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি ও রাজনৈতিক বিতর্ক
জাপান ও বাংলাদেশের যৌথ আলোচনায় মাতারবাড়ীকে একটি আঞ্চলিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আঞ্চলিক যোগাযোগ বা কানেক্টিভিটি বাড়ানোর প্রশ্নে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নানা তর্ক-বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে, কানেক্টিভিটি সুবিধার আওতায় কোনো প্রতিবেশীকে বিশেষ পরিবহন সুবিধা বা করিডোর দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের নিকট স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশীদের বড় বাজার ব্যবহারের মধ্যে অর্থনৈতিক যুক্তি থাকলেও এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সার্বিক অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐকমত্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য ও দ্বিপাক্ষিক চ্যালেঞ্জ
মাতারবাড়ী প্রকল্পের সাথে যেমন ভারত ও জাপানের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত, তেমনি ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের বিষয়টিও এখানে প্রাসঙ্গিক। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্যমান কৌশলগত ও বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করবে, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয়।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর কোনো নির্দিষ্ট দেশের ব্যবহারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা বিবেচনা করে সব দেশের বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগের প্রস্তাবের জন্য এই অবকাঠামো উন্মুক্ত রাখা হবে।






