জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘গণভোট’ আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অনড় অবস্থানের যৌক্তিকতা আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে পুরো জাতি—এমন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে এই কড়া মন্তব্য করেন।
পোস্টে দাবি করা হয়, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হলে এবং সমস্ত কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করার পর নির্বাচন দিলে জাতিকে আজকের এই রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হতো না। এনসিপির প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বল অবস্থান এবং বিএনপির ‘প্রতারণামূলক আচরণে’ পা দেওয়ার কারণেই আজ ১১-দলীয় ঐক্যের ব্যানারে এই রাজপথের আন্দোলন করতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিএনপি যে তাদের দেওয়া কথা রাখেনি, সে বিষয়ে তাঁরা আগেই ওয়াকিবহাল ছিলেন বলেও পোস্টে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ছাত্র উপদেষ্টারা ক্ষমতার মসনদে বসে অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। অথচ উপদেষ্টা হিসেবে তাঁদের প্রধান এবং মৌলিক দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের মহৎ কাজে জোরালো ভূমিকা রাখা। কিন্তু তারা সেই গুরুদায়িত্ব পালনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, যার চড়া মূল্য আজ পুরো জাতিকে পরিশোধ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি অংশগ্রহণকারী ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিয়ে একবারের জন্যও বসার বা ন্যূনতম সংলাপের সৌভাগ্য বা সদিচ্ছা ছাত্র উপদেষ্টাদের হয়নি। অভ্যুত্থানের অংশীজনদের বাদ দিয়ে একতরফা সিদ্ধান্তের ফলেই আজ দেশ নতুন করে অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।







