মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সরাসরি হামলা ও আগ্রাসনের পরও নিজেদের মহাকাশ প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা সফলভাবে ধরে রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ইরান। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থার একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে ইরানকে বিশ্বমঞ্চে একটি ‘উদীয়মান মহাকাশ শক্তি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
পেন্টাগনের ওই গোপন বা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযان চলাকালেও তেহরান বসে থাকেনি। ওই সংঘাতে মার্কিন জিপিএস সংকেত সফলভাবে বাধাগ্রস্ত (জ্যামিং) করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মহাকাশভিত্তিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছিল ইরানি বাহিনী।
মার্কিন স্যাটেলাইট নজরদারি ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বকে পাশ কাটাতে তেহরান কৌশলগতভাবে চীন ও রাশিয়ার সহায়তা নিচ্ছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। বিশেষ করে, সামরিক লক্ষ্যবস্তু নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে বেইজিংয়ের স্যাটেলাইট থেকে তোলা উচ্চ রেজুলেশনের ছবি সংগ্রহ করছে ইরান। অন্যদিকে, নিজেদের স্যাটেলাইট মহাশূন্যে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করতে মস্কোর কাছ থেকেও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা পাচ্ছে তারা। বর্তমানে কক্ষপথে ইরানের নিজস্ব প্রায় ১২টি কার্যকর স্যাটেলাইট সক্রিয় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সর্বাধুনিক হামলা ও প্রযুক্তিগত অবরোধ সত্ত্বেও ইরান যেভাবে জিপিএস সংকেত বিকল ও জ্যামিং করার সক্ষমতা বজায় রেখেছে, তা ওয়াশিংটনের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এর ফলে মহাকাশ গবেষণায় আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্য ও একক কর্তৃত্বের দাবি এখন তীব্র আন্তর্জাতিক প্রশ্নের মুখে পড়েছে।







