নারীঘটিত কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও ফাঁসের দাবির মুখে অবশেষে মুখ খুলেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। সম্প্রতি বগুড়ায় আয়োজিত একটি ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই ঘটনাকে আলেমদের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে দাবি করেছিলেন যে, আমির হামজার নারীসংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত অডিও ও ভিডিও ক্লিপ তার হাতে এসেছে। তিনি এসব উপাদানের সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্ট চেক) করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
রাশেদ খাঁনের এই দাবির জবাবে বগুড়ার মাহফিলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মুফতি আমির হামজা। বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর নৈতিকতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার টেনে আমির হামজা বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রিমান্ডে থাকা অবস্থায় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ভুয়া অডিও শুনে তৎকালীন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল।” বর্তমান ঘটনাকেও একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর চক্রান্তের অংশ বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও তাদের অনুসারীরা সত্য প্রকাশকারী আলেমদের স্তব্ধ করতেই এসব চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।” বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কোরআন সামনে রেখে এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্তদের বিচার দাবি করেন এবং যেকোনো ধরনের অপপ্রচারের সাথে নিজের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
ঘটনার পেছনের কথা
উল্লেখ্য, গত ৬ নভেম্বর রাশেদ খাঁন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দিয়ে আমির হামজার কথোপকথন ফাঁসের দাবি করেন। পোস্টে তিনি একটি অডিও ক্লিপের উল্লেখ করে জানান, এতে এক ব্যক্তিকে নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতাপ প্রকাশ করতে এবং ক্ষমা চাইতে শোনা যায়। রাশেদ খাঁন পোস্টটির কমেন্ট বক্সে অডিও লিংক যুক্ত করার কথা জানিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।







