মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। স্থানীয় সময় ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তোলেন।
সংবর্ধনায় ইউনূসের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার মেয়ে দিনা ইউনূস। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তিনি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এই সংবর্ধনায় অংশ নেন। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং নিশ্চিত করেছে।
এদিকে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করে বিটিভি, বিটিভি নিউজ ও বাংলাদেশ বেতার।
জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এছাড়া জামায়াত নেতা ড. নকিবুর রহমান তারেকও উপস্থিত ছিলেন।
ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরশাসনের পথে ফিরবে না। দলমত নির্বিশেষে গড়ে ওঠা ঐকমত্যের ভিত্তিতেই গণতন্ত্র ও সংস্কারের ধারাবাহিকতা টেকসই হবে। জনগণের আত্মত্যাগে অর্জিত ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে কোনো শক্তিই বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্যপূর্ণ একটি অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লক্ষ্য। যাতে কোনো স্বৈরশাসনের পুনরাবির্ভাব না ঘটে। তিনি সতর্ক করেন, রাষ্ট্র ও জনগণের রক্ষকরা যেন ভক্ষকে পরিণত না হয়। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন এবং জনগণের সম্পদ জনগণের কাছেই ফেরানোর আহ্বান জানান।
ভাষণে ড. ইউনূস ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
