জামায়াতে ইসলামী গত ১৫ বছর আওয়ামী সরকারের দমননীতির কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একচেটিয়া অপপ্রচারের মুখে পড়ে দলটি। তবে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচার পতনের পর নতুন করে পুনর্জাগরণ ঘটে। দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দ্রুত আলোচনায় আসে জামায়াত। এমনকি আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনরায় পেলে সরকার গঠনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা।
এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগী হয়েছে দলটি। ঢাকায় নিয়োজিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করছে জামায়াত নেতারা। অংশ নিচ্ছেন দূতাবাস ও মিশন-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে, পাশাপাশি বিদেশ সফর করে দলের অবস্থান ও নীতিমালা তুলে ধরছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, পাকিস্তান, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, কানাডা, ফ্রান্স, তুরস্ক, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিলসহ প্রায় ৪০ দেশের কূটনীতিকের সঙ্গে ইতিমধ্যে বৈঠক হয়েছে জামায়াত নেতাদের। তবে এখন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি।
সম্প্রতি জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলীয় প্রতিনিধি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমন্ত্রণে ব্রাসেলস ও যুক্তরাজ্য সফর করেছে। চীন সরকারের আমন্ত্রণে দলীয় প্রতিনিধিদের দেশটি ভ্রমণের কথাও জানা গেছে। এছাড়া আমেরিকা ও কানাডা সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন, সংস্কার কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক অবস্থান, নারী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক নীতি, জঙ্গিবাদবিরোধী অবস্থান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এসব বৈঠকে জামায়াতের নারী নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা বিদেশি প্রতিনিধিদের কাছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কেন্দ্রীয় কার্যালয় পুনরায় চালু হয়েছে এবং এটিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়েছে। তাদের দাবি, জুলাই বিপ্লবের পর থেকে ইতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে জামায়াত।
