প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর আলোচনায় শরীয়তপুরকে ফরিদপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে উঠেছে জেলা। রোববার (৫ অক্টোবর) বিকাল ৫টায় পৌরসভা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে মানুষ তাদের স্পষ্ট প্রতিবাদ জানায়।
স্থানীয় সংগঠন ‘জাগো শরীয়তপুর’-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণ অংশ নেন এবং এককণ্ঠে জোর দাবি তোলেন— “শরীয়তপুর ফরিদপুরে নয়, ঢাকাতেই থাকবে।”
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলার বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা; মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপি, খেলাফত মজলিস, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামি ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও অন্যান্য সংগঠনের নেতারা। বক্তারা তাদের বক্তব্যে ক্ষোভ, উদ্বেগ ও দৃঢ়তার সুর প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন, শরীয়তপুরের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা-চিকিৎসা মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। পদ্মা সেতু খুলে যোগাযোগ আরো সরল ও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সেই বাস্তবতা অগ্রাহ্য করে জেলাটিকে জোরপূর্বক ফরিদপুর বা অন্য কোনো দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভাগের সঙ্গে যুক্ত করা জনগণের ইচ্ছার পরিপন্থী হবে, তাদের দাবি।
শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এইচ এম জাকির হোসেন বলেন, প্রতিদিন হাজারো মানুষ পড়াশোনা, চাকরি, চিকিৎসা বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় যাতায়াত করে; ফলে ফরিদপুরের সঙ্গে বাস্তবিক বা ঐতিহাসিক সংযোগ নেই। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে জনগণকে বঞ্চিত করলে তারা রাজপথে নেমে লড়াই চালাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জাগো শরীয়তপুরের আহ্বায়ক আমিন মোহাম্মদ জিতু বলেন, যদি জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করা হয়, তারা নীরবে বসে থাকবে না — প্রয়োজনে পদ্মা সেতু অবরোধ করে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করাসহ কঠোর আন্দোলনে যাবে। তিনি এটিকে “জনগণের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম” হিসেবে মন্তব্য করেন।
বিকেলে পৌরসভা মাঠে হাজারো মানুষ প্ল্যাকার্ড হাতে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন; প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “ফরিদপুর নয়, আমরা ঢাকার মানুষ”। নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ সবাই একই স্লোগানে একত্রিত ছিলেন— “শরীয়তপুর আলাদা করলেই আন্দোলন হবে।”
