চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক নারীর সঙ্গে গোপন প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগে এক মার্কিন কূটনীতিককে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
বুধবার (৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়, ঘটনাটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য “গুরুতর হুমকি” হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনে ওই কূটনীতিকের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন,
“অভিযুক্ত কূটনীতিক স্বীকার করেছেন যে তিনি এমন এক চীনা নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন, যার সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। কিন্তু তিনি বিষয়টি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গোপন রাখেন—যা যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও নিরাপত্তা প্রোটোকলের লঙ্ঘন।”
তিনি আরও বলেন,
“জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন কোনো আচরণের ক্ষেত্রে আমরা শূন্যসহনশীল (Zero Tolerance) নীতি অনুসরণ করব। এটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী **মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে আমাদের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চীনের সরকার মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন,
“এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে আমরা মতাদর্শের ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টি এবং চীনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কলঙ্কিত করার তীব্র বিরোধিতা করি।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জো বাইডেন প্রশাসনের শেষদিকে চীনে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মীদের জন্য একটি কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়,
“চীনে কর্মরত মার্কিন কর্মকর্তা, তাদের পরিবার ও ঠিকাদাররা কোনো চীনা নাগরিকের সঙ্গে প্রেম বা শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে পারবেন না।”
ঘটনাটি প্রকাশের পর ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
