উত্তর কোরিয়া আবারও বিশ্বকে চমকে দিয়েছে তাদের সর্বশেষ ও সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক সক্ষমতার অস্ত্র উন্মোচনের মাধ্যমে। দেশটি ঘোষণা করেছে, নতুন প্রজন্মের সলিড-ফুয়েল ভিত্তিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) ‘হোয়াসং–২০’ (Hwasong-20) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
পিয়ংইয়ংয়ের সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিন-ধাপবিশিষ্ট এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত হামলা চালাতে সক্ষম, যার সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ১৫,০০০ কিলোমিটার। আরও দাবি করা হয়েছে, এটি একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড (MIRV) বহন করতে সক্ষম—যা একযোগে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
প্রযুক্তিগতভাবে এটি পূর্ববর্তী ‘হোয়াসং–১৮’-এর চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। নতুন ইঞ্জিনের থ্রাস্ট ক্ষমতা ১,৯৭০ কিলোনিউটন, যা আগের মডেলের তুলনায় প্রায় ৪০% বেশি শক্তিশালী। এর ফলে এটি কম সময়ের মধ্যে উৎক্ষেপণযোগ্য এবং সনাক্তকরণ প্রতিরোধে অধিক কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘হোয়াসং–২০’ উন্মোচন উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে একটি বড় অগ্রগতি নির্দেশ করছে। সলিড-ফুয়েল ব্যবহারের ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটি দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এবং পূর্ব প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা অনেক কমে যাবে—যা প্রতিরোধমূলক হামলার ক্ষেত্রে বিশাল সুবিধা দেবে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি পরিদর্শনের সময় বলেন,
“এটি আমাদের প্রতিরক্ষা ক্ষমতার নতুন যুগের প্রতীক। কেউ আমাদের সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে না।”
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এ ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠক আহ্বানের উদ্যোগ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—‘হোয়াসং–২০’ কি আসলে উত্তর কোরিয়ার কার্যকর প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল?’
