পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচির জনক অধ্যাপক আব্দুল কাদির খান ২০২১ সালের আজকের দিনে মৃত্যুবরণ করেন। উপমহাদেশে শক্তির ভারসাম্য বা ‘ব্যালান্স অব পাওয়ার’ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানকে এখনো যুগান্তকারী হিসেবে দেখা হয়।
পাকিস্তানের পারমাণবিক মিসাইল প্রকল্পে মোট ২২টি গবেষণাগার ছিল। প্রতিটি ল্যাবে আলাদা ধরণের কাজ চলত। কিন্তু ইউরেনিয়াম রিফাইনারি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সেন্ট্রিফিউজ বানাতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বড় ধরনের প্রযুক্তিগত জটিলতায় পড়েন। কারণ, এই সেন্ট্রিফিউজকে ৩৬ হাজার আরপিএম গতিতে নিখুঁতভাবে ঘুরতে হয়—যা সাধারণ প্রকৌশল দক্ষতা দিয়ে সম্ভব নয়, এর জন্য উন্নত স্তরের গণিত ও পদার্থবিদ্যার জ্ঞান অপরিহার্য।
এই সময় আব্দুল কাদির খান ইউরোপের নেদারল্যান্ডসের এক পারমাণবিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন, যেখানে তাঁর দায়িত্ব ছিল নতুন প্রজন্মের সেন্ট্রিফিউজ ডিজাইন নিয়ে কাজ করা। পরবর্তীতে তিনি সেই গুরুত্বপূর্ণ নকশা ও প্রযুক্তিগত ধারণা নিয়ে পাকিস্তানে ফিরে আসেন এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে এক গবেষণাগারে সেন্ট্রিফিউজ তৈরি শুরু হয়। পাশাপাশি ড. মুনির খানসহ আরও একাধিক বিজ্ঞানী অন্যান্য ল্যাবের দায়িত্বে থেকে কাজ এগিয়ে নেন।
খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে পাকিস্তান তাদের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনে সফল হয়। এই অর্জনের ফলে উপমহাদেশে সামরিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
আন্তর্জাতিকভাবে আব্দুল কাদির খানকে একদিকে জাতীয় বীর হিসেবে দেখা হলেও, অন্যদিকে তিনি নানা বিতর্কের জন্ম দেন। অনেক দেশ তাঁর কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক পরমাণু বিস্তারবিরোধী নীতির লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করেছে। তবুও পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কাছে তিনি রয়ে গেছেন এক কিংবদন্তি—দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে।
