মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আলোচিত ‘রাসেল–ফয়সাল বাহিনী’র প্রধান রাসেল হাওলাদারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মীরেরবাগ এলাকার একটি ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন— শ্রীনগরের বাঘড়া ইউনিয়নের রাসেল হাওলাদার (৩০), সাখাওয়াত বেপারি (২৮) এবং তারেক খান (৩০)।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যায়। ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পরপরই শনাক্ত অভিযান শুরু হয় এবং জড়িতদের অবস্থান নিশ্চিত করে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তে জানা গেছে, ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল শ্রীনগর কলেজের পূর্ব–উত্তর কর্নারের একটি পুকুরপাড়ে। সেখানে চারজন যুবককে হাতে পিস্তল নিয়ে গুলি চালানোর প্রশিক্ষণ দিতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে দুজনের হাতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “দামি কিন্তু এইডা, দুইডা দিয়া শট করমু।” তখন অন্যজন জবাব দেন, “দুইডা দিয়া শট করা যাইব না, একটা দিয়া শট করতে হইব। গুল্লি রেয়ার, পাওয়া যায় না।” পরে আরেকজন বলেন, “লকটা খুলে টিপ দিলেই গুলি বের হইব।” এরপর একজন যুবককে আকাশের দিকে গুলি চালানোর ভঙ্গি করতে দেখা যায়।
পুলিশের ধারণা, ভিডিওটি দলের এক সদস্য নিজের মোবাইলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওতে দেখা চারজন যুবকের মধ্যে রাসেলের বাড়ি বাঘড়া ইউনিয়নে, ফয়সালের বাড়ি কামারখোলায়, আহিরের বাড়ি শ্রীনগর ইউনিয়নের মথুরা পাড়ায় এবং অর্পণের বাড়ি একই এলাকায়।
পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, “গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভিডিওতে থাকা অন্যদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”







