দুর্গাপুরের সুতিয়াপাড়া গ্রামে মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুল্লাহ দীর্ঘ অভিযোগ করেছেন যে স্থানীয় এক তৃণমূল রাজনৈতিক নেতা ও কিছু অজ্ঞাতজন (অভিযোগের ভাষায়—আওয়ামী লীগ নেতাসহ বিএনপি সমর্থক) মিলে তার ওপর এবং তার স্ত্রীর ওপর নৃশংস নির্যাতন চালিয়েছে।
হাফেজ আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, তিনি মাদ্রাসায় নিজ স্ত্রীসহ অবস্থান করছিলেন। গভীররাতে কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করে এবং পরে তার কক্ষে ঢুকে ১৫ হাজার টাকা দাবি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে হাফেজ ও তার স্ত্রীর ওপর মারধর করা হয়; স্ত্রীর পর্দা জোর করে সরিয়ে মুখ দেখানো হয়, ভিডিও ধারণ করা হয় এবং স্পর্শকাতর স্থানে হয়রানি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীদের ফজরের নামাজ আদায় করতে দেয়া হয়নি বলে দাবী করেছেন তারা।
স্থানীয়রা বলছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন একাধিকবারের উপজেলা/ইউনিয়ন সদস্য ও পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তি; স্থানীয় নানারূপ রাজনৈতিক পরিচয় (আওয়ামী লীগ নেতা এবং বিএনপি-সমর্থক) নিয়ে অভিযোগ উঠলেও কোন প্রতিকার মেলেনি। ওই এলাকার কয়েকজন বৃদ্ধ মুরুব্বি ঘটনাটি প্রশাসনের কাছে জানিয়েও যথাযথ বিচার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ও বিচলিত।
ভুক্তভোগী পরিবার জানান, ঘটনার পর তারা দ্রুত স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন এবং মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর কাছে ন্যায় চেয়ে গেছেন; কিন্তু এখনো বিচারসহ্য বা প্রতিকার পাননি। তারা দ্রুত নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দাবি করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে করে এসেছে এবং মাদ্রাসার পাশে মোটরসাইকেল রেখে কক্ষের মধ্যে ঢুকেছে — পরে রাতে আক্রমণ ও অপব্যবহার চালানো হয়েছে। অনেকে দাবি করেন যে ঘটনার পরে এলাকায় উত্তেজনা বাড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ঘটনাস্থলে সিরিয়াস মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সম্ভাব্য যৌননির্যাতনের অভিযোগ থাকায় এলাকাবাসী দ্রুত পুলিশি তদন্ত, মেমো মেডিকেল পরীক্ষা (মেডিক্যাল/ফরেনসিক) ও মানবিক সহায়তা দাবি করছে। তারা আরও বলেন, ঘটনার সম্পূর্ণ তথ্য প্রমাণসহ থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
মানবাধিকার ও স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে প্রতিবেদনকারি কয়েকটি বিষয় প্রস্তাব করছে: ঘটনার স্বীকারিদের দ্রুত সুরক্ষা দেয়া, আহতদের চিকিৎসা-সহায়তা নিশ্চিত করা, স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটনাস্থল ও সিসিটিভি ফুটেজ অনুসন্ধান করে তথ্য সংগ্রহ করা, এবং নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করে দায়ীদের শনাক্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।







