রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ২৭ ঘণ্টা পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। রোববার বিকালে আগুন নির্বাপণ কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে ফায়ার সার্ভিস। দুর্ঘটনায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার পণ্য ও সরঞ্জাম পুড়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আগুনে তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্পের কাঁচামাল, কৃষিপণ্য ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পুড়ে যায়। এতে অনেক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং আগামী এক মাস রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণের দাবিতে রোববার বিমানবন্দরে অবস্থান নেন; কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে কার্গো ভিলেজের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সের রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও অনুমতির জটিলতায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়, ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম জানান, একে একে ৩৭টি ইউনিটের সদস্যরা টানা ২৭ ঘণ্টা কাজ করে আগুন নেভান। তিনি বলেন, “স্টিল স্ট্রাকচারের কারণে তাপ দীর্ঘসময় ধরে থাকায় আগুন নেভাতে সময় লেগেছে। যদি ডিটেকশন ও প্রটেকশন সিস্টেম থাকত, ক্ষয়ক্ষতি কম হতো।”
অগ্নিকাণ্ডে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে আনা বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বহু উচ্চমূল্যের আমদানি পণ্য নষ্ট হয়েছে। মমতা ট্রেডিং কোম্পানির কর্মকর্তা সরকার বিপ্লব হোসাইন জানান, তাদের প্রায় ১৮ টন পণ্য সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আলম জানান, ক্ষতির পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ধোঁয়া ও মিথেন গ্যাসের ঝুঁকি থাকায় পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্নে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে। দুর্ঘটনায় আনসার সদস্যসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ পৃথক কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিকভাবে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ও অনুমতি পদ্ধতির বিলম্বকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।







