নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ফেরদৌসী আক্তার রেহেনাকে ঘিরে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন তিনি প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নৌকার সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে ব্যানার-মিছিলে তার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। বিশেষ করে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ পরিচয় তাকে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী অবস্থান এনে দিয়েছিল। বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকায় সিল দিয়ে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারও করেছিলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ফেরদৌসী আক্তার রেহেনা হঠাৎই আওয়ামী বিরোধী অবস্থান নেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি যোগ দেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিতে এবং নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে ঈগল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। ইতোমধ্যে তিনি এলাকাব্যাপী সভা-সমাবেশও করছেন। তার এই রাজনৈতিক রূপান্তর স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার সময় রেহেনার কর্মকাণ্ড ছিল প্রকাশ্য ও প্রভাবশালী। সস্তাপুর এলাকায় তার প্রভাব এতটাই ছিল যে অনেকেই ভয়ে তার বিরুদ্ধে কথা বলতেন না। তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক সহ-সভাপতিকে বিয়েও করেছিলেন। বিগত একাদশ ও দ্বাদশ নির্বাচনে তিনি নারী ভোটারদের হুমকি দিয়ে কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। কেউ ভোটের গোপনীয়তা রাখতে চাইলে তাদের মোবাইলে ছবি তুলে ভোট প্রমাণ দেখাতে বাধ্য করা হতো বলেও স্থানীয়দের দাবি।
এবি পার্টির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ফেরদৌসী আক্তার রেহেনার মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ১০৯টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে, তবে নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
একসময় আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত রেহেনা এখন নিজেকে বিরোধী নেত্রী হিসেবে উপস্থাপন করলেও স্থানীয়দের অনেকেই তাকে দেখছেন ‘রাজনীতির হাওয়া বোঝা’ পুরোনো রেহেনা হিসেবেই, যিনি সময়-পরিস্থিতি অনুযায়ী অবস্থান বদলাতে পারদর্শী।







