দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে তিন মাস পর আবারও ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় নাসিক অঞ্চল থেকে পেঁয়াজবোঝাই ভারতীয় তিনটি ট্রাক বন্দর এলাকায় প্রবেশ করে। আমদানির খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত দাম কমে যায়।
মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজের আমদানিকারক আব্দুল মালেক বাবু জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর ৪০০ ডলার মূল্য নির্ধারণে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। তবে কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় বিক্রি এখনো শুরু হয়নি। হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা এ আর জামান বাঁধন বলেন, ট্রাক তিনটি বন্দরে প্রবেশ করেছে, কিন্তু শুল্কায়ন ও পরীক্ষণের আবেদন না আসায় কাস্টমস কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক গ্রুপের সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত শতাধিক ব্যবসায়ী আমদানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কৃষকের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে অনুমতি বন্ধ রাখা হলেও সাম্প্রতিক বাজার অস্থিরতায় সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমদানির খবরে বাজারে আকস্মিক দাম কমায় তিনি সিন্ডিকেটকেই দায়ী করেন।
হিলি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এনজিও কর্মী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। কিন্তু আমদানির খবরেই এক ঝটকায় দাম কমে যাওয়া বাজার সিন্ডিকেটেরই প্রভাব। তার অভিযোগের সত্যতা স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীও স্বীকার করেন।
খুচরা ব্যবসায়ী মোকারম হোসেন জানান, শনিবার যে পেঁয়াজ ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, এখন তা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম ১১০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৮৫ টাকা। পাইকারি দামে বড় পরিবর্তনের কারণে এই প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে।
একাধিক আমদানিকারক জানান, হিলি বন্দরের শতাধিক ব্যবসায়ী আইপি অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। অনেকে অনুমতি পেয়ে আমদানিও শুরু করেছেন। যাদের অনুমতি বাকি, তারা প্রস্তুতি নিয়ে ভারতের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। অনুমতি পেলেই আমদানি শুরু হবে।







