যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিহতের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। রবিবার (১ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ স্থানীয় প্রসিকিউটর ইব্রাহিম তাহেরির উদ্ধৃতি দিয়ে এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের নিকটবর্তী মিনাব জেলায়। ‘শাজারেহ তাইয়্যেবা’ নামক ওই বালিকা বিদ্যালয়টিতে হামলার সময় প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্কুল ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় প্রসিকিউটর ইব্রাহিম তাহেরি জানান, হামলায় আরও অন্তত ৯৫ জন গুরুতর আহত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছে কি না, তা নিশ্চিতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইরানি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ওই বালিকা বিদ্যালয়টি একটি আইআরজিসি (IRGC) সামরিক কমপ্লেক্সের পাশে অবস্থিত হওয়ায় সেটি লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারে। উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমোজগান প্রদেশে ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি রয়েছে, যা গত দুদিন ধরে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।
এই হামলার পর ইরানজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটির সরকার এই ঘটনাকে ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।







