মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মাঝে সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঁচটি প্রধান তেল স্থাপনার নিকটবর্তী এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছে, কোনো বিলম্ব না করে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে।
এদিকে আজ বুধবার ভোরে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এবং আইআরজিসি-র ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, হামলার পর সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের স্থাপনায় এই হামলা বর্তমান সামরিক পরিস্থিতির মধ্যে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই গ্যাসক্ষেত্রটি মূলত কাতারের ‘নর্থ ফিল্ড’-এরই একটি বর্ধিত অংশ।
মাজেদ আল-আনসারি আরও সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা কেবল বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের জনগণ এবং পরিবেশের জন্যও এক বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কাতারের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, তারা এই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল স্থাপনা সংলগ্ন এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান হয়তো ওই অঞ্চলের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা পুরো বিশ্বের তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।







