পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের আকস্মিক প্রত্যাহারকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বস্তুগত সক্ষমতার চরম ব্যর্থতা ও ‘অন্তঃসারশূন্যতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শুক্রবার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, এই অঞ্চলে অবস্থানরত ‘ক্লান্ত ও পরাজিত’ মার্কিন সেনাদের সামরিক সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়ে রণতরীটির পিছু হটা মূলত ওয়াশিংটনের অসহায়ত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।
বিবৃতিতে রণতরীটির আগমনের সময়কার ব্যাপক পশ্চিমা প্রচারণা এবং বর্তমানের নিঃশব্দ প্রস্থানকে মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবাজদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আইআরজিসি মনে করে, ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই রণতরীটি আসলে আঞ্চলিক প্রতিরোধ শক্তির প্রতি গভীর ভীতির কারণেই বাবে আল-মান্দাব প্রণালী এড়িয়ে চলতে বাধ্য হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা এই পশ্চাদপসরণকে একটি সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করছেন। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, রণতরীটির লন্ড্রি রুমে অগ্নিকাণ্ডের কারণে এটি মেরামতের জন্য গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের অভিমুখে যাত্রা করেছে। তবে আইআরজিসি এই অজুহাতকে তীব্র উপহাস করে বলেছে, যে বিশাল শক্তি তাদের লন্ড্রি রুমে আগুনের কারণে রণক্ষেত্র ছেড়ে পালায়, তাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংগত।
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, অগ্নিকাণ্ডে ১০০টিরও বেশি বিছানা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং ধোঁয়ার কারণে প্রায় ২০০ ক্রু সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর পাশাপাশি জাহাজটির দীর্ঘমেয়াদী যান্ত্রিক ত্রুটি এবং শৌচাগারের অব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোও সামনে এসেছে। দীর্ঘ নয় মাসের মোতায়েনে সেনাদের মনোবল ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও বর্তমানে একই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সম্মুখীন। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক সম্পদগুলোর ওপর আঘাত অব্যাহত রেখেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নির্দেশনায় দেশটির নৌবাহিনী যেকোনো মুহূর্তে মার্কিন মেরিনদের কঠোর শিক্ষা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।







