ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির ক্ষমতার কাঠামোতে এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখন আর একক নেতৃত্বে নয়, বরং একটি যৌথ যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ক্ষমতার এই নতুন বিন্যাস দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বর্তমানে আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি নামমাত্র সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকলেও তাঁর ভূমিকা মূলত প্রতীকী। তিনি সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের বদলে মূলত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুমোদনকারী হিসেবে কাজ করছেন। এর ফলে ইরানের কয়েক দশকের দীর্ঘ একক নেতৃত্ব কেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাটল ধরেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের হাতে চলে গেছে। এই সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বই এখন দেশটির যুদ্ধ কৌশল, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির মূল গতিপথ নির্ধারণ করছে। মূলত সামরিক কর্মকর্তাদের প্রভাব এখন আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণ করতে সামরিক শক্তিকেই বেছে নিয়েছে ইরান। এর ফলে দেশটির ভবিষ্যৎ নীতিমালায় আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী ও সামরিক ভাবধারা প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ক্ষমতার এই পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







