ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে না এলেও দেশটির যুদ্ধ ও কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তিনি এখনো পর্দার আড়াল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, বর্তমানে ইরানের ক্ষমতার কাঠামো কিছুটা বিভক্ত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত অবসানের আলোচনায় মোজতবার প্রভাব অপরিসীম।
যুদ্ধের শুরুতে এক হামলায় তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা নিহতের পাশাপাশি দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও মারা যান। ওই একই হামলায় মোজতবা খামেনি নিজেও গুরুতর আহত হন, যার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের তথ্যমতে, তিনি এখনো চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শরীরের এক পাশে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার ক্ষত রয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে তিনি ইলেকট্রনিক যোগাযোগ এড়িয়ে সরাসরি সাক্ষাৎ বা বিশ্বস্ত বার্তাবাহকের মাধ্যমে সীমিত যোগাযোগ রাখছেন।
তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ইতিবাচক তথ্য দিচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি এখন সুস্থ আছেন এবং তাঁর আঘাত দ্রুত সেরে উঠছে। এরই মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে একটি দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। এটিই দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের খবর।
মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, পেন্টাগনের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হলেও তা মোটেও ধ্বংস হয়ে যায়নি। দেশটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি সচল। এছাড়া কঠোর মার্কিন অবরোধের মধ্যেও ইরান আরও বেশ কয়েক মাস অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে ইরানের দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি মূলত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ পরিচালনা করছেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তা মার্কো রুবিও সতর্ক করেছেন যে, ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো এখনো বেশ বিভক্ত ও অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সংঘাত নিরসনের আলোচনায় একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







