লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বিএনপি নেতার করা চাঁদাবাজির মামলায় মো. মিলন (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার করইতলা বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিলন চরলরেন্স ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে এবং নিজেকে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে আসছিলেন।
গত ২০ এপ্রিল চরলরেন্স ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোরশেদ বাদী হয়ে মিলনসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে কমলনগর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মিলন এই মামলার প্রধান আসামি। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার পরিবর্তনের পর মিলন এলাকায় চাঁদাবাজি, সরকারি জায়গা দখল ও করইতলা বাজারের বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর বসানোর মতো অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, এসব অপকর্মের ভাগের একটি অংশ স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও পৌঁছাত। মূলত এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মামলার বাদী মোরশেদ জানান, ফ্যাসিবাদের পতনের পর মিলন একটি বিশেষ মহলের ছত্রছায়ায় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। শেষ পর্যন্ত সংসদের হুইপ ও সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম উদ্দিনের নির্দেশে তিনি মামলাটি করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইউছুফ পাটোয়ারী জানিয়েছেন, চরলরেন্স ইউনিয়নে বর্তমানে যুবদলের কোনো কমিটি নেই। মিলন যুবদলের কেউ নন এবং তাঁর সাধারণ সম্পাদক পদের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। অন্যদিকে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল আলম জানান, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।







