রংপুরের রিকশাচালক আরিফুল ইসলাম নিহতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃতরা হলেন— রংপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ শাহ (মার্ডার ফিরোজ), বদরগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব গোপাল ব্যানার্জি এবং বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাট। তাঁদের সঙ্গে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংসদ। এর আগে জেলা শাখা থেকেও তাঁদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল।
ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, গত ৫ মে রংপুর আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে ‘মার্ডার ফিরোজ’ গ্যাং ও মমিনুল গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এর জেরে ওই দিন বিকেলে বদরগঞ্জের আম্বিয়ার মোড়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় রাজমিস্ত্রির কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন রিকশাচালক আরিফুল ইসলাম। তাঁর বাড়ি প্রতিপক্ষ মমিনুল গ্রুপের এলাকা ‘পাঠানপাড়া’ জানতে পেরেই ফিরোজ গ্যাংয়ের সদস্যরা তাঁকে কুপিয়ে ও মারধর করে হত্যা করে।
নিহত আরিফুল ইসলাম বদরগঞ্জ পৌর শহরের নয় নম্বর ওয়ার্ডের রেজাউল ইসলামের ছেলে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে বদরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি ফিরোজ শাহর বিরুদ্ধে ৩টি হত্যাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। এছাড়া গ্রেফতার হওয়া গোপাল ব্যানার্জি ও মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাটের বিরুদ্ধেও একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানিয়েছেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত চারজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আসামি গোপাল ব্যানার্জিকে নওগাঁ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য পলাতকদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







