কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির কাছে একটি মেয়েদের আবাসিক স্কুলে গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রাবাসে ঘুমন্ত অবস্থাতেই অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দগ্ধ ও আহত হয়েছে আরও অন্তত ৭৪ জন শিক্ষার্থী। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও কেনিয়া রেড ক্রস সোসাইটি ইতিমধ্যে এই হতাহতের খবরটি নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও উদ্ধারকারী সূত্র জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত গিলগিল এলাকার ‘উতুমিশি গার্লস স্কুল’–এর একটি ডরমিটরিতে (ছাত্রাবাস) হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মধ্যরাতে সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো কাঠের বা পাকা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় ওই ডরমিটরিতে প্রায় ২২০ জন শিক্ষার্থী ঘুমিয়ে ছিল।
কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, আগুন লাগার খবর পেয়ে জরুরি সেবাদাতা, চিকিৎসাকর্মী ও দমকল বাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনো অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি।
মেয়েদের স্কুলের বাইরে অপেক্ষমাণ উদ্বিগ্ন ও কান্নারত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে স্থানীয় পুলিশ কমান্ডার মাসৌদ উইনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক একটি পরিস্থিতি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে আপাতত শুধু ভুক্তভোগী অভিভাবকদেরই স্কুলের ভেতর ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
কেনিয়ার আবাসিক স্কুলগুলোতে প্রায়ই এই ধরনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের দুর্ঘটনায় অসংখ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীর প্রাণহানি হয়েছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাত্রাবাসগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে রাখা এবং যথাযথ অগ্নি নির্বাপক ও জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণেই অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের সংখ্যা এতটা বৃদ্ধি পায়।
এদিকে অগ্নিকাণ্ড থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া এক শিক্ষার্থীর স্বজন ওয়ামবুই দেরিতু বিবিসিকে বলেন, মাঝরাতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা চরম উদ্বেগ ও আশঙ্কা নিয়ে স্কুলে ছুটে আসি। ভাগ্যবশত আমার ভাগ্নি প্রাণে বেঁচে গেছে। সে এখন সুস্থ ও আশঙ্কামুক্ত আছে, তবে তাড়াহুড়ো করে ভবন থেকে নামার সময় তার একটি পা ভেঙে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধসে পড়া ডরমিটরি ভবনের ধ্বংসস্তূপের ভেতর এখনো তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।







