জাতীয় সংসদে টিআর-কাবিখা বরাদ্দ নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দেশে দুর্যোগের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের আলাদা কোনো মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে কি না। তার অভিযোগ, সম্প্রতি ঘোষিত টিআর-কাবিখা বরাদ্দে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের আসন অন্তর্ভুক্ত হলেও বিরোধী দলের কোনো আসন রাখা হয়নি।
সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নের মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আখতার হোসেন বলেন, গত ৩০ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা কেবল সরকারি দলের আসনগুলোতেই গেছে। বিরোধী দলের কোনো আসন এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
তিনি বলেন, “যদি দুর্যোগ কেবল সরকারি দলের এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন ছিল। কিন্তু দুর্যোগে তো সব এলাকার মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এই বরাদ্দ থেকে বিরোধী দলের আসনের মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”
আখতার হোসেনের দাবি, গত ৩০ এপ্রিল সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের আসনে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন চাল-গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের বরাদ্দ বিরোধী দলের আসনগুলোতে কবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চান।
বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্ন’ হিসেবে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, অভিযোগটি সত্য হলে তা অবশ্যই অনভিপ্রেত ও অনুচিত। তিনি এ বিষয়ে মন্ত্রীর কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করেন।
জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের কাছেও জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, যেসব সংসদ সদস্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই বাকি বরাদ্দও পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংসদে উপস্থিত বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “আপনারাও বরাদ্দ পাবেন। যারা চাহিদাপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই তা সংশ্লিষ্ট এলাকায় পৌঁছে যাবে।”







