আজ শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে ‘পাতলী খাল পুনঃখনন’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ও এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বক্তব্য চলাকালে একপর্যায়ে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করায় বিরোধী দলের তীব্র নিন্দা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “যে বাজেটের মাধ্যমে জনগণের জন্য স্বস্তির ব্যবস্থা করছে সরকার, সেই বাজেট বলে বিরোধী দল মানে না। তারা দাবি তুলেছে কেন মদের উপরে আমরা ট্যাক্স বাড়ালাম। তারা দাবি তুলেছে কেন আমরা সিগারেটের উপরে ট্যাক্স বাড়ালাম। এই তাদের দুঃখ।” বিএনপির অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলসহ দেশের মূলধারার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই বক্তব্যটি সরাসরি প্রচারিত হয়েছে।
তবে গণমাধ্যম ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর একটি ফ্যাক্ট-চেক বা সত্যতা যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজেটে মদ, সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিরোধী দল কোনো বক্তব্য দিয়েছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। বিরোধী দলগুলোর অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন খুঁজেও এ ধরনের কোনো দাবির অস্তিত্ব মেলেনি।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মূলত ফেসবুকে ছড়ানো একটি ভুয়া ফটোকার্ডের বার্তার সাথে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মিল রয়েছে। সম্প্রতি দৈনিক কালের কণ্ঠের লোগো ও নকশা হুবহু নকল করে একটি ফটোকার্ড ছড়ানো হয়। সেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিলের ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হয়েছিল, “বাজেটে বিড়ি, সিগারেট, মদ, গাঁজা ও তামাকজাত দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল।”
দ্য ডিসেন্ট এবং ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ‘রিউমার স্ক্যানার’ নিশ্চিত করেছে যে, এই ফটোকার্ডটি সম্পূর্ণ ভুয়া। কালের কণ্ঠ এমন কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, গত ১১ জুন প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিবাদে জামায়াত যে মিছিলটি করেছিল, তার আসল ব্যানারে লেখা ছিল— “গণবিরোধী ও লুটপাটের বাজেটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল”। ভুয়া ফটোকার্ডটিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যানারটি এডিট করে মদ ও সিগারেটের প্রসঙ্গ জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।
বাজেট নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অফিশিয়াল বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা কোথাও মাদক বা তামাকজাত দ্রব্যের ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা করেনি। জামায়াতে ইসলামী প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে “অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক” এবং ঋণনির্ভর আখ্যা দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে, যা মূলত জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।







