‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে খিলগাঁও থানা ছাত্রদল নেতা মো. নুরুজ্জামান জনিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৬ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
আজ রবিবার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে মামলার এ পর্যন্ত অগ্রগতি তুলে ধরে সাবেক আইজিপি শহীদুল হক ও সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়াকে একদিন করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় প্রার্থনা করলে আদালত দুটি আবেদনই মঞ্জুর করেন।
এর আগে, আজ সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে পুলিশের সাবেক এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানির সময় আদালতে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত মো. নুরুজ্জামান জনি রাজধানীর খিলগাঁও থানা শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে থেকে জনি ও অপর ছাত্রদল নেতা মহিউদ্দিনকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
অভিযোগে বলা হয়, তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ওই দিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে খিলগাঁও জোনের জোড়াপুকুর খেলার মাঠে জনিকে নিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ বা বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন আইজিপি শহীদুল হক ও ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।







